শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন
ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। সোমবার (১০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নানা পরামর্শ ও আগ্রহের বিষয়টিই প্রাধান্য পাবে এমন ধারণা করেছিলেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে সম্প্রতি র্যাব নিয়ে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেতে তথ্যচিত্র প্রচারের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও ঢাকায় দেশটির দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া দেখে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনায় র্যাব ইস্যু আবারও গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন তারা।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটাও রাজনীতিরই একটা অংশ। র্যাবের বিষয়টি যেহেতু বাংলাদেশের জন্য স্পর্শকাতর তাই সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এ ইস্যুটি ঘুরেফিরে আসছে। যেহেতু র্যাব যুক্তরাষ্ট্রেরই ব্রেইন চাইল্ড, তাই তারাই হয়তো এখন এ সংস্থার সংস্কার চাইছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজ ওয়াশিংটনে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে র্যাব ইস্যু আবারও প্রাধান্য পাবে। এছাড়া এবারে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ একটু বেশি, ফলে আলোচনার জন্য এটা একটা ইস্যু হিসেবে রাখা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার আগে গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন নিজেও সংবাদমাধ্যমকে সেখানে কী কী বিষয়ে আলোচনা হতে পারে এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার কী চায় তা তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, বৈঠকে বিভিন্ন সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী এবং তারা সবসময় এ বিষয়টি তুলে ধরে।
এদিকে গত শুক্রবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফেসবুক পেজে র্যাব নিয়ে ডয়চে ভেলের তথ্যচিত্রটি শেয়ার করার ঘটনায় কিছুটা বিব্রত সরকারপক্ষ। এনিয়ে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও এমপিরা। কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্টজনরাও প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এ বিষয়টা নিয়ে আলোচনা চলছে। নিষেধাজ্ঞার আগেই তো এ নিয়ে দেশটির যথেষ্ট তদন্ত করার কথা।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীল সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, র্যাব ইস্যুতে ঢাকা-ওয়াশিংটনের মধ্যে মন্ত্রী ও সংসদীয় প্রতিনিধিদল পর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনা চলছে। আমাদের বিরোধী রাজনৈতিকপক্ষ এটাকে উসকে দিচ্ছে। সরকারপ্রধান আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজেই চান অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। বিএনপি যখন কিছুই পায় না তখন তারা অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিদেশিদের কাছে নালিশ করতে থাকে।
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালি উর রহমান বলেন, একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বেশি বেশি নাক গলানোর সুযোগ তৈরি হয় বিরোধী রাজনৈতিক দলের তৎপরতা থেকে। র্যাব নিয়ে সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে অনেক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে। র্যাব তো তাদেরই তৈরি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকার দিক থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, রোহিঙ্গা ইস্যু, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর প্রত্যাবাসন, বহুপক্ষীয় সহযোগিতাসহ অন্যান্য বিষয় গুরুত্ব পেয়ে থাকে। অন্যদিকে মানবাধিকার, গণতন্ত্র, রোহিঙ্গা ইস্যু, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বানসহ অন্যান্য বিষয়ে গুরুত্ব দেয় ওয়াশিংটন।